Barakah
Video link: https://youtu.be/NJU0NNcdodU
মানুষের ইনকাম বেড়েছে প্রশান্তি চলে গেছে মানুষের সংসারে আসবাপত্র বেড়েছে কিন্তু সংসার থেকে সুখ নাই হয়ে গেছে কারণ কি কারণ আমি আল্লাহর কাছে উপকরণ চেয়েছি আমি বারাকা চাইনি যে শুধু টাকা পয়সা বা সম্পদ না আমরা আমাদের সময়ও বরকত পাই না অনেক সময় দেখা যায় যে এক ঘন্টায় যে পরিমাণ কাজ করা যায় আমরা তিন ঘন্টায়ও এই পরিমাণ কাজ করতে পারছি না এটার কারণ কি এবং এই সময়ে কিভাবে আমরা বরকত আনতে পারি বারাকা মানে মনের শান্তি বারাকা মানে স্থায়িত্ব বারাকা মানে একটা জিনিস লম্বা সময় ধরে চলে আসা মানে শান্তি পাওয়া, স্বস্তিতে থাকা অথবা বিপদ
আপদ থেকে মুক্ত থাকা এটাও একটা বারাকা অংশ। >> এটাও বারাকার অংশ। সহজ হয়ে যাওয়া। দিনের সকালবেলার সময়টাকে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে। সোমবারকে, বৃহস্পতিবারকে, জুমাবারকে, আরাফাতার দিবসকে, তারপরে হচ্ছে লাইলাতুল কদরের রাতকে। হ্যাঁ। এগুলাকে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে। যে রিজিক হচ্ছে খাবার। আর বারাকা হচ্ছে ওই খাবারের দ্বারা আপনার ক্ষুধ নিবরণ হওয়া এবং ওই খাবারের দ্বারা আপনার শরীরে কোন রোগ সৃষ্টি না হওয়া। আচ্ছা বারাকা তো নষ্ট হয় কেন এগুলো আমরা জানলাম বারাকা বৃদ্ধি পায় কিভাবে সাইকেল পূরণ করে ঘুমাতে হয় একটা
মানুষ যদি 10 টা থেকে 12 টা পর্যন্ত এক ঘন্টা ঘুমায় তাহলে তার এক ঘন্টা ঘুম ইকুয়াল টু চার ঘন্টা চার্জ মানে আমি ঘুমাবো এক ঘন্টা কিন্তু আমার শরীরে এনার্জি গেদার হবে চার ঘন্টা ছয় টার পর থেকে সকালবেলা প্রত্যেক এক ঘন্টা ঘুম মানে হচ্ছে দুই ঘন্টা করে ড্যামেজ আমরা সকালবেলা ঘুমাচ্ছি ঠিকই কিন্তু এটা আমাদের শরীরকে পচিয়ে দিচ্ছে শরীরকে নষ্ট করে দিয়েছে তাহলে এই সকালের ঘুম মাধ্যমে আমাদের বারাকা নষ্ট হয়। সংসার থেকে বারাকা নাই হয়ে যাওয়ার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে আমাদের ঘরে সালামের প্রচলন নাই। ঘরের মধ্যে আমরা সালাম দেই না। মনে করি
আমারই ওয়াইফ তাকে আমি কি সালাম দিব? এখন তো গুড মর্নিং গুড নাইটের যুগ। রাসূল বলেছেন যে তোমরা যদি তিনটা কাজ করো তাহলে তোমার ওই ঘরে কখনো আর দারিদ্রতা ঢুকবে না। বারাকা বা বরকত মানে কি? সম্পদ বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ আমাকে বরকত দিবেন। এর অর্থ কি? এই যে আমার 5000 টাকা আগামী মাস থেকে 10000 টাকা হয়ে যাবে অথবা আমার কাছে থাকা 500 টাকা 1000 টাকা হয়ে যাবে। আমরা আজকে জানবো বারাকা কাকে বলে বারাকা অর্থ কি? বারাকার পরিচয় কি? বারাকার কোন প্রকার আছে কিনা এবং কিভাবে আমরা আল্লাহ পাকের কাছ থেকে বারাকা লাভ করতে পারি।
আসসালামু আলাইকুম। আমি নুরুল্লাহ মারুফ আছি আপনাদের সাথে। রকমারি সিরাতুল মুস্তাকিমের আরো একটি পর্বে। আপনাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি। আজকে আমাদের সাথে আছেন জনপ্রিয় লেখক, গবেষক এবং সাংবাদিক মাওলানা মিরাজ রহমান। মিরাজ ভাই কেমন আছেন? >> আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। আপনারাও ভালো আছেন আশা করি। >> আলহামদুলিল্লাহ। মিরাজ রহমানের আরও একটি পরিচয় হচ্ছে তিনি রকুমারী থেকে একের পর এক তিন তিনবার বেস্ট সেলার অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। আজকে আমরা মিরাজ রহমানের সাথে কথা বলব বারাকা বিষয়ে। বারাকা আসলে কি? বা অনেকে এটাকে বরকত বলে থাকেন। বারাকা বা
বরকত মানে কি? সম্পদ বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ আমাকে বরকত দিবেন। এর অর্থ কি? এই যে আমার 5000 টাকা আগামী মাস থেকে 10000 টাকা হয়ে যাবে অথবা আমার কাছে থাকা 500 টাকা 1000 টাকা হয়ে যাবে। আমরা আজকে জানবো বারাকা কাকে বলে? বারাকা অর্থ কি? বারাকার পরিচয় কি? বারাকার কোন প্রকার আছে কিনা? এবং কিভাবে আমরা আল্লাহ পাকের কাছ থেকে বারাকা লাভ করতে পারি? মিরাজ ভাই প্রথমেই আমি জানতে চাচ্ছি বারাকা আসলে কি? ইসলামী পরিভাষায় বারাকা বলতে কি বোঝায়? >> জি ধন্যবাদ জানাচ্ছি নুরুল্লা ভাই আপনাকে এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি রকমারি.com কে যে
চমৎকার একটি সাবজেক্ট তারা সিলেক্ট করেছে। যদিও এই সাবজেক্টটা আমার বইয়ের সাথে সম্পর্কিত। এই বছর আমি যে বইটা লিখেছি সেটার নাম দা সিক্রেটস অফ রিজিক এন্ড বারাকা। >> আমার কাছেও মনে হয়েছে যে মানুষ বারাকা নিয়ে আসলে আমরা কম জানি। বারাকা সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার। বারাকা শব্দটা আমাদের আপন ভাইয়ের মত একটা শব্দ। ধরেন আমি আমার আপন ভাইয়ের নাম শুনলে যেরকম পরিচিত মনে হয় বারাকা শব্দটা শুনলে কিন্তু আমাদের সেরকম পরিচিত মনে হয়। কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে আমরা এই আপন ভাইকেই চিনি না। আমরা এই আপন ভাইকেই জানি না। আমরা এই আপন
ভাইকে কিভাবে গ্রহণ করতে হবে তার সাথে কি ব্যবহার করতে হবে সেটা জানি না। বারাকা শব্দ শুনলেই আমাদের মাথার মধ্যে একটা দৃশ্য চলে আসে যে বৃদ্ধি এবং সেটা শুধুমাত্র সংখ্যায় বৃদ্ধি আমি মনে করি যে আমি এক লাখ টাকার মালিক ছিলাম আমি যদি তন লাখ টাকার মালিক হয়ে যাই তাইলেই বারাকা >> ধরেন আমার ব্যবসায় দোকান ছিল একটা এখন আমার যদি তিনটা হয়ে যায় তাইলেই বারাকা এটা একদম ভুল ধারণা >> কারণ বারাকা মানেই শুধু সংখ্যায় বৃদ্ধি না এটা বারাকা সম্পর্কে আমাদের প্রথম মাইন্ডসেট ক্লিয়ার করতে হবে যে বারাকা মানেই সংখ্যা বাড়ানা এক দুই হয়ে যাওয়া
500 1000 হয়ে যাওয়া পা লাখ 10 লাখ হয়ে যাওয়া বিষয়টা এরকম না বারাকা আরো একটু ব্যাপক যেমন বারাকা মানে হচ্ছে সংখ্যায় বৃদ্ধি এক বারাকা মানে হচ্ছে স্থায়িত্ব দুই বারাকা মানে হচ্ছে মানসিক প্রশান্তি তিন বারাকা মানে হচ্ছে সুকুন চার বারাকা মানে হচ্ছে ধারাবাহিকতা পাঁচ এই পাঁচ ধরনের ডেফিনেশন বা অর্থ মিলে বারাকা একটা শব্দ দাঁড়ায় যেমন ধরেন আপনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেল না কিন্তু আপনার সংসার টিকে আছে বহু বছর ধরে এটাকে কি আপনি বারাকা বলবেন না এটাও ইসলামের দৃষ্টিতে বারাকা একই কোম্পানিতে আপনি চাকরি করতেছেন 25 বছর
50 বছর ধরে এটা কি সংখ্যায় বৃদ্ধি না এটাও বারাকা আপনি ধরেন সুন্দরভাবে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারতেছেন আপনি অনেক বছর ধরে এটাও কি বারাকা না এটাও বারাকা তাইলে ধরেন আমাদের বারাকা মানে হচ্ছে শুধুমাত্র সংখ্যায় বৃদ্ধি না বারাকা মানে হচ্ছে স্থায়িত্ব বারাকা মানে হচ্ছে মনের শান্তি। দেখবেন সমাজে অনেক মানুষ আছে যাদের বিপদের অভাব নাই। কিন্তু মনে কোন পেরেশানি নেই। সে দিববি হাসতেছে দেখলেই বলে যে ভাই আপনি এরতও পেরেশানিতে আছেন কিন্তু আপনাকে দেখে মনে হয় না। এটাও বারাকার অংশ। সুতরাং বারাকা মানে আমরা শুধুমাত্র সংখ্যায় থেমে থাকবো না। বারাকা
মানে মনের শান্তি। বারাকা মানে স্থায়িত্ব। বারাকা মানে একটা জিনিস লম্বা সময় ধরে চলে আসা। মানে শান্তি পাওয়া স্বস্তিতে থাকা অথবা বিপদ আপদ থেকে মুক্ত থাকা এটাও একটা বারাকা অংশ >> এটাও বারাকার অংশ সহজ হয়ে যাওয়া ধরেন আমরা একটা কাজ করতেছি বাহ্যত দৃষ্টি আমার মনে হচ্ছে যে কাজটা করা খুব কঠিন কিন্তু দেখবেন খুব সহজভাবে কাজটা হয়ে যাচ্ছে >> এটাও বারাকা >> বারাকার কি কোন প্রকার আছে >> জি বারাকার প্রকার তো অবশ্যই আছে এর আগে একটা বিষয় আমাদের জানা দরকার বারাকা নিয়ে আমাদের সবচেয়ে যে ভুলটার মধ্যে আমরা আছি
এই ভুলটা আমাদের একটু আইডেন্টিফাই করা দরকার সেটা হচ্ছে গিয়ে দেখেন আপনি দেখবেন আপনি যদি 100 জন মুসলমান ইভেন 100 জন নামাজী মুসলমানকে জিজ্ঞেস করেন যে ভাই আপনি আল্লাহর কাছে কি চেয়েছেন? সে বলবে আমি আল্লাহর কাছে রিজিক চেয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে টাকা চেয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে গাড়ি চেয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে বাড়ি চেয়েছি। আমি আল্লাহর কাছে অর্থসম্পদ চেয়েছি। আমি আল্লাহকে বলেছি যে আল্লাহ আমাকে এইটা বাড়িয়ে দাও। ওইটা বাড়িয়ে দাও। আমরা আল্লাহর কাছে রিজিক চাই। আমরা আল্লাহর কাছে বারাকা চাই না। >> আচ্ছা।
কিন্তু আমাদের দরকার হচ্ছে বারাকা চাওয়া। আপনি অনেকগুলো জরিপ দেখবেন যে 10 বছর আগের তুলনায় 10 বছর পরে এখন সংসারে অনেক আসবাপত্র বেড়ে গেছে মানুষের ইনকাম বেড়ে গেছে কিন্তু শান্তি কিন্তু কমে গেছে মানুষের ইনকাম বেড়েছে মানুষের প্রশান্তি চলে গেছে মানুষের সংসারে আসবাপত্র বেড়েছে কিন্তু সংসার থেকে সুখ নাই হয়ে গেছে কারণ কি >> শান্তির উপকরণ এসেছে কিন্তু শান্তি নাই >> শান্তি আসে নাই কারণ কি কারণ আমি আল্লাহর কাছে উপকরণ চেয়েছি >> আমি বারাকা চাইনি >> অথচ আমি আল্লাহর কাছে যদি বারাকা চাইতাম
তাহলে ওই অল্প অল্প উপকরণের মধ্যেও কিন্তু আমার সংসারটা সুখী থাকতো। আমার সংসারে শান্তি থাকতো। আমার ওয়াইফ আমার কথা শুনতো। আমার সন্তান আমার কথা শুনতো। সংসারটা হতো একটা জান্নাতি পরিবার। >> আচ্ছা আমি কি তাহলে রিজিক আর বারাকাকে এইভাবে বুঝতে পারি যে আমি শান্তির যে উপকরণগুলো আমার কাছে এসেছে এটা এসেছে রিজিক হিসেবে। >> আর এই উপকরণের মাধ্যমে আমি যে শান্তিটুকু পাচ্ছি এই শান্তিটা হচ্ছে বারাকা। আমার উপকরণ দরকার এবং সেই উপকরণ কিন্তু নির্ধারিত। কিন্তু উপকরণের যে প্রশান্তি এটা কিন্তু নির্ধারিত না। >> আমি যদি আল্লাহর কাছে বারাকা চাই আল্লাহ
কিন্তু আমাকে 100 হাজার টাকার মধ্যেই বারাকা দিয়ে দিতে পারেন। আমি যদি আল্লাহর কাছে বারাকা চাই অনেক কম আসবাপত্রের মধ্যেও কিন্তু আল্লাহ আমাকে সুখ দিয়ে দিতে পারেন। >> আচ্ছা বিষয়টা কি এভাবে বলা যাবে যে ধরেন একজন মানুষ এক ঘন্টায় যেই কাজ করতে পারছে আমি এক ঘন্টায় তার চেয়ে বেশি কাজ করতে পারছি বা আরেকজন মানুষ এক ঘন্টায় বেশি কাজ করতে পারছে। আমরা তো এই যে বেশি কাজটা আপনার কথা থেকে মনে হচ্ছে এটা বারাকা। জি >> কিন্তু দুইটা আলাদা >> না এটা হচ্ছে ধরেন আমাদের বর্তমান আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় নেক সূরাতে শয়তানের
ধোঁকা আমি শব্দটা আবার বলতেছি নেক সূরাতে শয়তানের ধোঁকা আমাদের একজন বিখ্যাত রুহানী চিকিৎসক আল্লামা আশরাফ আলী থানভী রহমাতুল্লাহ আলাইহি আপনি জানেন উনি একটা কথার মধ্যে উনি বলেছেন যে মানুষকে শয়তান 60000 নেকসূতে ধোঁকা দেয় >> আল্লাহ কেন? ধরেন একটা মানুষকে দিয়ে শয়তান যখন দেখে তাকে দিয়ে শিরিক করানো যাচ্ছে না। তাকে দিয়ে বিদাত করানো যাচ্ছে না। তাকে দিয়ে হারাম করানো যাচ্ছে না। তাকে দিয়ে গুনাহ করানো যাচ্ছে না। তখন শয়তান তার পিছনে নেক সূরাতে ধোঁকা দেওয়া শুরু করে দেয়। >> এই যে প্রোডাক্টিভিটি এবং বারাকা এটা আমি
বলব আমাদের আধুনিক মুসলিমদের জন্য একটা নেক সূরাতে শয়তানের ধোঁকা। কারণ কি? ধরেন প্রোডাক্টিভিটি কখনো বারাকা না। >> আচ্ছা। >> বারাকার একটা অংশ হচ্ছে প্রোডাক্টিভিটি। আপনি যদি প্রোডাক্টিভ লাইফ লিড করেন এর মানেই যে আপনি বারাকামন্ডিত লাইফ লিড করবেন এটা কিন্তু না। বাকি আপনার আমার জীবনে যদি বারাকা চলে আসে আমার লাইফের প্রোডাক্টিভিটি এমনিতেই চলে আসবে। কারণ কি? বারাকা দেওয়ার মালিক হচ্ছে আল্লাহ। আর প্রোডাক্টিভিটির মালিক হচ্ছি আমি। আমি ধরেন এক ঘন্টার জায়গায় পাঁচ ঘন্টা কাজ করলাম। আমি ধরেন পাঁচ ঘন্টার জায়গায় 10
ঘন্টা কাজ করলাম। আমি একটার জায়গায় দুইটা কাজ করলাম। এটা আমি ইচ্ছা করে করতে পারি। কিন্তু এই প্রোডাক্টিভ লাইফ লিড করার মাধ্যমে এটা কখনোই নিশ্চিত হবে না যে আমি প্রোডাক্টিভ লাইফ লিড করলেই আমার লাইফটা বারাকাপূর্ণ হবে। বারাকা আনতে হবে। আল্লাহর কাছে যেমনটা বলছিলাম যে আমরা আল্লাহর কাছে বারাকা প্রার্থনা করি না। আমাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে বারবার প্রতিনিয়ত সবসময় আমাদেরকে বারাকা প্রার্থনা করতে হবে। যেমনটা আমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কিন্তু বারাকা প্রার্থনা করেছেন। >> আপনি যে প্রসঙ্গটা আলোচনা করেছিলেন সেটা
হচ্ছে যে বারাকার কোন প্রকার আছে কিনা? অবশ্যই বারাকার প্রকাশে। বারাকা সাধারণত দুই প্রকারের বারাকা ধরা যায়। একটা হচ্ছে দৃশ্যমান বারাকা। যেটাকে চোখ দিয়ে মাপা যায়। >> আরেকটা হচ্ছে অদৃশ্য বারাকা। যেটাকে চোখ দিয়ে মাপা যায় না উপলব্ধি করা যায়। >> যেমন ধরেন একজন ব্যবসায়ী সে ব্যবসা শুরু করেছে। সে ব্যবসার প্রথম বছরে তার একটা দোকান ছিল। দ্বিতীয় বছরে তিনটা দোকান পাঁচটা দোকান হয়ে গেছে। এই যে বারাকাটা তিনি পাচ্ছেন। সংখ্যায় বৃদ্ধি এটাকে চোখ দিয়ে দেখা যায়। >> বাহ্যিক বারাকা। >> বাহ্যিক বারাকা। একটা সংসার 50 বছর যাবত
কোন ঝামেলা ছাড়া চলে আসতেছে বাহ্যিক বারাকা একটা চাকরি আপনি 50 বছর যাবত করতেছেন বাহ্যিক বারাকা কিন্তু অদৃশ্য বারাকাটা কি অদৃশ্য বারাকা হচ্ছে আপনি কোন একটা কাজ বাহ্য তো মনে করতেছেন যে এই কাজটা করা কোনভাবেই সম্ভব না কিন্তু খুব সহজে হয়ে যাচ্ছে আল্লাহ পাকের রহমতের মাধ্যমে হয়ে যাচ্ছে আপনার কাছে ধরেন খাবার আছে পাঁচজনার আপনি মনে করতেছেন যে পাঁচজনার বেশি খাওয়া যাবে না কিন্তু একই খাবার 80 জন লোক খেয়ে ফেলেছে এটা হচ্ছে অদৃশ্য বারাকা যেমন দুইটা ঘটনা যদি আমি বলি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তালা আনহুর একটা ঘটনা তিনি একবার একটা খেজুরের
ঝুরির মধ্যে কিছু খেজুর নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লামের কাছে গেলেন গিয়ে বললেন যে আল্লাহ রাসূল আপনি এই খেজুরগুলোতে বারাকার দোয়া করে দিন >> দেখেন উনি কিন্তু বলে নাই যে আপনি এই খেজুরগুলোতে রিজিকের দোয়া করে দিন কি বলেছে বারাকার দোয়া করে দিন আল্লাহ রাসূ খেজুরগুলো নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলল যে ঠিক আছে এটা তোমার কাছে রেখে দাও খেজুরের এই থলিটার মুখ খুলবা না যখনই খাবা হাত দিয়ে খাবা এবং এটা কখন উপর করবা না। >> আচ্ছা >> হাদিসের বর্ণনা এরকম আসছে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু বলছে যে আমি এই থলির মধ্য
থেকে কত ওয়াসাক খেজুর যে মানুষকে দিয়েছি আর আমি খেয়েছি এটার সঠিক পরিসংখ্যান আমার কাছে নাই। >> আল্লাহ >> এবং পরবর্তীতে যদি বলে যে এই খেজুরের থলিটা উনার কোমরে সবসময় থাকতো। ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা যখন ইন্তেকাল করেছে তখন ওই থলিটা উনার কোমর থেকে পড়ে গেছে। এরপর আর ওটার মধ্যে বারাকা ছিল না। এবং ইতিহাসের মধ্যে বলা হয় এইটা প্রায় 35 বছরের একটা গ্যাপ ছিল। সুবহানাল্লাহ দেখেন এক থলি খেজুরের মধ্যে আল্লাহ রাসূল সাল্লাম বারাকার দোয়া করে দিয়েছেন সেটা 35 বছর যাবৎ তিনি খেয়েছেন সবাইকে খেয়েছেন কিন্তু শেষ হয়নি এটা
হচ্ছে অদৃশ্য বারাকা এটাকে চোখ দিয়ে মাপা যায় না যুক্তি দিয়ে বোঝা যায় না এটা শুধু উপলব্ধি করতে হয় আরেকটা ঘটনা বলি এক সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াত দিয়েছেন তাকে খাওয়াবেন সবাই একটু আগ্রহী থাকতো যে আল্লাহর রাসূল আমার ঘরে এসে খাবে তো তিনি দাওয়াত দেওয়ার পরে চিন্তা করেছেন যে আল্লাহর রাসূল আসবেন সাথে হয়তো এক দুইজন নিয়ে আসবেন সর্বোচ্চ চার পাঁচজন আসবেন ওইভাবে উনি খাবার তৈরি করেছেন এরপর আসার সময় দেখলেন যে আল্লাহ রাসূ বিশাল বহর নিয়ে আসছেন খন্দকের যুদ্ধের ঘটনা 80 জনের
বহর নিয়ে আসছেন ওই বেচারা তো দেখে মোটামুটি একটু চিন্তায় পড়ে গেছে যে আল্লাহ রাসূল এতগুলো লোক নিয়ে আসছেন কিভাবে হবে তিনি কানে কানে গিয়ে আল্লাহ রাসূলকে বললেন ইয়া রাসূল্লাহ আমার তো প্রিপারেশন ছিল এরকম >> এত মানুষের খাবার এত মানুষের খাবার ইন্তেজাম করে আল্লাহ রাসূ বলল মুচকি হাসি দিয়ে বললেন যে কোন সমস্যা নাই তুমি বিসমিল্লাহ বলে খাবার দেওয়া শুরু করো ওই 80 জন লোকই তার পাঁচজনের খাবার পেট ভরে খেয়েছে। এরপরও নাকি খাবার একটু বাড়তি ছিল। >> সুবহানাল্লাহ। >> এটা হচ্ছে ধরেন অদৃশ্য বারাকা। এখন আমি
আমাদের সমাজের মানুষের জন্য বলতে চাই যে আমরা হয়তো অনেকে প্রশ্ন করতে পারি যে ভাই এটা তো সাহাবীদের যুগের ঘটনা। এটা তো আল্লাহ রাসূলের যুগের ঘটনা। আমি প্রশ্ন করতে চাই ভাই সেই আল্লাহ রাসূলের সময় এবং সাহাবীদের সময় যে আল্লাহ ছিল ওই আল্লাহ কি এখন নাই? >> এখনো আচ্ছা নাউজুবিল্লাহ। ধরেন ওই আল্লাহ যেই আল্লাহ তখন ছিল 1500 বছর হয়ে গেছে আল্লাহ একটু বৃদ্ধ হয়ে গেছে >> না >> নাউজুবিল্লাহ বলা ছাড়া কোন উপায় আছে তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে রাসূলের যুগে সাহাবীদের যুগে যে আল্লাহ ছিল সেই আল্লাহ যদি এখনো থাকে আল্লাহ যদি তাদের কথা শুনে
তাদেরকে এইভাবে বারাকা দেয় আল্লাহ আমাদেরকে কেন বারাকা দিচ্ছে না আমাদের >> এটার প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে আমাদের গাফিলতি আল্লাহর গাফিলতি না কারণ কি ধরেন আল্লাহ যেভাবে যখন চাইতে বলেছেন আমরা সেইভাবে তখন চাই না ভাই আপনি তো আপনাকে একটা প্রশ্ন করি ধরেন যদি আমাদের দেশের সরকার প্রধান যদি আপনাকে বলে যে তুমি রাত্র 3:00 টার সময় আমার কাছে আসো আমি তুমি যা চাইবা আমি তোমাকে দিয়ে দিব আপনি কি মিস করবেন >> আমি সেটাতে ঘুমাবো না >> আপনিও ঘুমাবেন না মিস করবেন না এবং আমি মিরাজ আমিও মিস করবো না আমিও ঘুমাবো না
ঠিক তিনটার আগেই আমি সেখানে উপস্থিত হব ভাই আমার আল্লাহ প্রত্যেকদিন শেষ রাত্রে আমাকে ডাকছেন আমাকে বলছেন যে বান্দা তুমি আমার কাছে আসো তুমি কি লাগবে বল আমি তোমাকে পূরণ করব আমি কিন্তু ঘুমাচ্ছি আমি কিন্তু আমার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিচ্ছি না। আমি কিন্তু আমার আল্লাহর কাছে চাচ্ছি না। তাইলে দেখেন দোষটা কি আল্লাহর? দোষটা হচ্ছে আমাদের। সুতরাং ভাই এই রাসূুল্লাহ সাল্লামের যুগে যে আল্লাহ ছিলেন সাহাবীদের যুগে যে আল্লাহ ছিলেন যেই আল্লাহ রাসূলের এবং সাহাবীদের কথা পুঙ্খানুপুঙ্খ কবুল করেছেন, তাদের জীবনে বারাকা দিয়েছেন,
অদৃশ্য বারাকা দিয়েছেন, ওই আল্লাহ এখনো আছেন। আমরা যদি আল্লাহর কাছে চাওয়ার মতো চাইতে পারি আল্লাহ আমাদের জীবনেও বারাকা দিবেন ইনশাল্লাহ। >> ইনশাল্লাহ। ভাই আপনি তো বারাকার কথা যেগুলো বললেন যে দৃশ্যমান অদৃশ্যমান বারাকা বেড়ে যায় বা এটাতে আল্লাহপাক অনেক মানুষের জন্য সহজ করে দেন সুযোগ করে দেন কঠিন কাজকে সহজ করে দেন আমরা এর বাইরেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখি অনেক বস্তুকে বারাকা মনে করা হয় যেমন ধরেন আল্লাহ রাসূলের জামানায় আল্লাহ রাসূলের ঘামকে অনেকে বারাকা হিসেবে সংগ্রহ করার চেষ্টা করতেন বা অনেক সময় আমাদের এই
সময়টাও এসে দেখি যে আমরা অনেকেই তাদের পছন্দের পীর সাহেবের খাওয়া পানি অথবা অনেক মাদ্রাসাগুলোতে শাইখুল হাদিস সাহেবের যেই পানির গ্লাস বা তিনি যেই সিটে বসেছেন সেই সিট বা টেবিল এগুলোকে বরকতময় মনে করা হয় এটা কি শরীয়তে আছে বা এটার আসলে ব্যাখ্যা কি এই সমস্ত বিষয়গুলোকে কোরআন হাদিসের আলোকে বরকতময় মনে না করার কারণেই আমরা বরকত হারাচ্ছি >> পরিষ্কার কথা প্রথম কথা হচ্ছে ধরেন মক্কাতুল মুকাররমা মদিনাতুল মুনাওয়ারা এবং ফিলিস্তিন মসজিদুল আকসার যে আশেপাশের এরিয়া >> এই তিনটা স্থান ছাড়া অন্য কোন স্থানকে
বারাকামন্ডিত বলা হয়নি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন সুবহানাল্লাহ মাসজিদিল হারামি ইলাল মাসজিদিল আকল্লা বারকনা হাওলাহু তলে দেখেন এক স্থান যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে মক্কা মোকাররমা মদিনাতুল মুনাওয়ারা এবং ফিলিস্তিন বায়তুল মুকাদ্দাসের আশেপাশের জায়গা এই তিনটা হচ্ছে আমাদের বারাকার জায়গা এবং এই তিনটা জায়গা ছাড়া অন্য কোন জায়গাকে বারাকা মন্ডিত মনে করে ইবাদতের জন্য যাওয়াও কিন্তু নিষেধ যাওয়া যাবে না সুতরাং আমরা যারা বোঝার এখান থেকে বুঝে নেব যে আমরা কোন দরবারকে, কোন স্থানকে, কোন শরীফকে আমরা বারাকামন্ডিত মনে করবো আর
করবো না। >> দ্বিতীয় কিছু আলোচনা আছে যেটা আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে বললেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ আমাদের যারা আম্বিয়া কেরাম ছিলেন তারা বারাকামন্ডিত ছিল কোরআন হাদিসের আলোকেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘামকে। আপনি একটা হাদিস হয়তো জানবেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হতো, তখন ওই এলাকার মানুষ পানি নিয়ে তার কাছে হাজির হইতো। যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানির মধ্যে যদি
আঙ্গুল দিয়ে দেয়, এটাকে তারা বারাকা মন্ডিত মনে করবে। ঠিক না? আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম একত্রে এইটা হল রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লামের ব্যাপারে তিনি বারাকামন্ডিত মানুষ তাকে বারাকামন্ডিত মনে করা যাবে তার সবকিছুই বারাকামন্ডিত পাশাপাশি ধরেন কিছু খাবার আছে কোরআন হাদিসের আলোকে যেমন ধরেন জাইতুনের তেলকে বারাকামন্ডিত খাবার বলা হয়েছে খেজুরকে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে মধুকে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে দুধকে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে তালবিনাকে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে এই সমস্ত খাবারগুলো হচ্ছে বারাকামন্ডিত খাবার
তালবিনা কি >> তালবিনাটা এক প্রকার সুপ জাতীয় খাবার >> আচ্ছা যেটাকে ধরেন আমরা ওই যে জবের যে গুড়া আছে জবের গুঁড়া দিয়ে এটাকে বানানো হয় এবং এটা কিন্তু খুব পাওয়ারফুল বরকতময় খাবার এটার ব্যাপারে হাদিস আছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে এটা যদি কেউ খায় তাহলে তার ভেতরের শোক দূরিভূত হয়ে যাবে। >> আচ্ছা >> এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম বলেছেন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে যে যখন তাদের বাড়িতে কেউ মারা যেত, কোন বাড়িতে কোন লোক
মারা গেলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বাসায় তালবিনা পাঠাতে বলতেন। যে তাদেরকে বাসায় তালবিনা পাঠাও। তালবিনা খেলে তাদের শোক দূরিভূত হবে। দেখেন কত চমৎকার বারাকামন্ডিত খাবার কিন্তু আমরা এটা জানি >> জানি না >> হ্যাঁ আমরা অন্য কিছুর মধ্যে বারাকা খুঁজতেছি পাশাপাশি ধরেন আমরা কিছু সময় আছে কিছু দিন আছে যেগুলোকে কোরআন হাদিসে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে যেমন দিনের সকালবেলার সময়টাকে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে সোমবারকে বৃহস্পতিবারকে জুম্মাবার কে আরাফাতার দিবসকে তারপরে হচ্ছে লাইলাতুল
কদরের রাতকে হ্যা এগুলাকে বারাকামন্ডিত বলা হয়েছে পরিষ্কার একটা কথা বলতে চাই আমি সেটা হচ্ছে কোরআন এবং সহীহ হাদিসে যে যে সমস্ত স্থানকাল পাত্র সময়কে বারাকাত বলা হয়েছে এর বাইরে কোন বস্তু স্থানকাল পাত্রকে বারাকামন্ডিত বানানো ভাবা সম্পূর্ণ শিরিক হবে। সুতরাং আমি যারই মুরিদ হই না কেন আমি যারই অনুসারী হই না কেন এই বারাকা মন্ডিত ভাবার ব্যাপারে আমাকে অবশ্যই ভাবতে হবে। >> আচ্ছা আচ্ছা। মানে এর মাধ্যমে তার দোয়া পাওয়া যাবে বা তার রুহানি কোন ফয়স পাওয়া যাবে অথবা তিনি যে আল্লাহর বুজুর্গ সেই বুজুর্গীর কিছু অংশ আমি পাবো এটা মনে
করার সুযোগ নেই এইটা একটা বিষয় আর বারাকামন্ডিত ভাবা একটা বিষয় ধন সহবাত একটা বিষয় আছে আমাদের ইসলামে মানে স্বীকৃত বিষয় বুজুর্গদেরকে সহবাত সহবতে একজামানা সহবতে বা আউলিয়া বেহতারা সালাত বারিয়া একটা মানে বিখ্যাত কবিতা আছে যে একজন বুজুর্গ মানুষের স্পর্শ কিছুক্ষণ কাটানো হাজার বছর এবাদত করার চেয়ে উত্তম। কারণ কি? কারণ হচ্ছে দেখবেন ইসলামে কিন্তু ফিকিরের খুব গুরুত্ব। একজন বুজুর্গ মানুষের সংস্পর্শে থাকলে ভিতরে যে জজবা তৈরি হয় যে আগ্রহ তৈরি হয় ওই আগ্রহটা অনেক বেশি ইবাদত করতে উৎসাহিত করে। এটা একটা বিষয়। বাকি বারাকামন্ডিত ভাবতে হলে
আমাকে কোরআন হাদিসের আলোকে ভাবতে হবে। কোরআন হাদিসের আলোকের বাইরে কাউকে বারাকামন্ডিত ভাবার সুযোগ নেই। আচ্ছা আমরা এই যে যদি কথাটা কিছু অংশ এসেছে তারপরও ক্লারিফিকেশনের জন্য আমরা আরেকটু বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে যে আমরা রিজিকের ব্যাপারে যেটা বলি হ্যাঁ যে আমি যখন কোন কিছু রিজিক হিসেবে পাচ্ছি তখন এইটা এই রিজিকটা যেমন রূপী ধারণ করুন না কেন পুরাটাই আমার জন্য রিজিক যেমন আমাকে আল্লাহ উপার্জন হিসেবে এক লক্ষ টাকা দিলেন। কিন্তু সেই সাথে তিনি আমাকে আরো 50 লক্ষ টাকা খরচের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিলেন। আমার বিপদ আপদ, আমার অসুস্থতা, আমার অন্যান্য
অনেক সমস্যা যেখানে হয়তো আমার অনেক টাকা খরচ হতে পারতো সেগুলো থেকে তিনি আমাকে বাঁচিয়ে দিলেন। আমরা মনে করি এটাও একটা রিজিক বা আমরা জানি এটাও একটা রিজিক। কিন্তু এখন আমরা যে কথাটা এতক্ষণ আলোচনা করছি সেখান থেকে আমার মনে হচ্ছে যে না এটা একটা বারাকা। রিজিক এবং বারাকা দুইটা কি একই জিনিস না কোন পার্থক্য আছে? না রিজিক এবং বারাকা দুইটার কনসেপ্ট কাছাকাছি কিন্তু দুইটা পার্থক্য আছে। দুইটা আলাদা জিনিস। ধরেন রিজিক হচ্ছে একটা উপাদান। যেমন আমি যদি উদাহরণ হিসেবে বলি যে রিজিক হচ্ছে খাবার। আর বারাকা হচ্ছে ওই খাবারের
দ্বারা আপনার ক্ষুধা নিবরণ হওয়া এবং ওই খাবারের দ্বারা আপনার শরীরে কোন রোগ সৃষ্টি না হওয়া। এটা হচ্ছে বারাকা। তাহলে বারাকাটা হচ্ছে একটু ব্যাপক জিনিস। আর রিজিকটা হচ্ছে একটু সংক্ষিপ্ত বা একটু বৈশিষ্ট্য মন্ডিত একটা জিনিস। রিজিক হচ্ছে একটা উপাদান। আর বারাকা হচ্ছে সেই উপাদানের মধ্যে আমার শান্তি চলে আসা। সেই বারাকা হচ্ছে সেই উপাদানের মধ্যে আমি স্থায়িত্ব পাওয়া। বারাকা হচ্ছে সেই উপাদানের মধ্যে কোন ক্ষতির থেকে আমার বেঁচে যাওয়া। বারাকা কি হারিয়ে যাওয়ার কোন আশঙ্কা আছে? যে কোন গুনাহ বা কোন পাপ বা স্পেসিফিক কোন কাজ করলে আমার জীবন থেকে
বারাকা চলে যাবে। আর ওগুলো না করলে বারাকা থেকে যাবে? জি অবশ্যই ভাই যেহেতু আমরা আলোচনার মধ্যেও বলেছি যে বারাকা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একটা রহমত অবশ্যই এটা একটা অস্পৃশ্য জিনিস অবশ্যই এটা একটা পবিত্র জিনিস একটা জিনিস আসে আসা মানেই তো বারাকা ঠিক না তো যেই জিনিসটা আসে সেই জিনিসটা আসা বন্ধও হয়ে যেতে পারে বা সেই জিনিসটা হারিয়েও যেতে পারে সম্প্রতি আমি একটি বই লিখেছি দ্যা সিক্রেটস অফ রিজিক এন্ড বারাকা নামে ওই বইটার মাঝে আমি কোরআন হাদিসের আলোকে অনেকগুলো কাজ দেখিয়েছি যেই কাজগুলোর মাধ্যমে বারাকা নষ্ট হয় এবং এই কাজগুলো
আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের লাইফে করি সুতরাং আমরা যদি বারাকা চাই বারাকার ক্ষতি থেকে বাঁচতে চাই বারাকা হারিয়ে যাক সেটা না চাই তাহলে আমাদের এই কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে এক নাম্বার কাজ হচ্ছে হারাম থেকে বেঁচে থাকা আমাদের সমাজে আমরা এখন হারাম এবং হালাল এক হয়ে গেছে কোনটা হালাল কোনটা হারাম এটা আমরা জানিও না বুঝিও না বাজ বিচারও করি না তো এটা হচ্ছে এক নাম্বার কারণ যে আমাদের জীবনে যদি হারামের কোন সংশ্লিষ্ট থাকে আমরা যদি হারামের সাথে লিপ্ত থাকি তাহলে আমাদের বারাকা নষ্ট হয়ে যাবে। দুই নাম্বার কাজ হচ্ছে গোপন গুনাহে
লিপ্ত থাকা বা পাচা পাপাচারে লিপ্ত থাকা। দেখেন এখন সমস্যাটাকে বলা হয় যে সোশ্যাল মিডিয়ার স্বর্ণযুগ। অনেক অনেক সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদেরকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছে যে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার এই সীমানা থেকে বেরোতে পারতেছি না। সোশ্যাল মিডিয়াকে আমি বলি যে গোপন গুনাহর একদম কারখানা। প্রত্যেকটা সোশ্যাল মিডিয়া ইন্ডিভিজুয়ালি এ একটা গোপন গুনাহর কারখানা। তো আমরা যদি এই গোপন গুনাহ থেকে বাঁচতে না পারি তাহলে আমদের বারাকা নষ্ট হযা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
যে গুনাহ মানুষের রিজিককে নষ্ট করে দেয়। তো রিজিক আসা বন্ধ মানে কি? বারাকা নষ্ট হয়ে যাওয়া। গুনাহ মানুষের জীবন থেকে বারাকাকে তুলে নেয়। সুতরাং আমাদেরকে গুনাহ থেকে পিছনে থাকতে হবে। তিন নাম্বার একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আমি খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই। আমাদের সংসারে বারাকা হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে আমাদের সংসারে রহমতের ফেরেশতা আসে না। প্রত্যেকটা মুসলমানের জীবনে প্রত্যেকটা মুসলমানের সংসারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে রহমতের ফেরেশতারা আসা যাওয়া করে। যদি ওই ঘরে রহমতের ফেরেশতা আসে না যেই ঘরে কুকুর
থাকে যেই ঘরে মানুষের ছবি থাকে। খুবই দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে বাংলাদেশে অনেক প্রাকটিসিং মুসলমানের ঘরেও এখন কুকুর ঢুকে গেছে। অনেক প্রাকটিসিং মুসলমানের ঘরেও এখন ছবি ঢুকে গেছে। পুতুল ঢুকে গেছে। ভাস্কর্য ঢুকে গেছে। নানানভাবে এই জিনিসটা আমাদের ঘরে ঢুকে গেছে। আপনি এমন একটা ঘর খুঁজে পাবেন না যেই ঘরের মধ্যে কোন একটা ছবি নাই, কোন একটা পুতুল নাই, কোন একটা কার্টুন নাই, কোন একটা খেলনা নাই, কোন একটা কুকুর নাই, কোন একটা প্রাণী নাই। তো এই যে কাজগুলো আমরা করতেছি এই কাজগুলোর কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাম একদম স্পষ্ট
বলেছেন ওই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না যেই ঘরে কুকুর আছে যেই ঘরে ছবি আছে তাহলে এখন ধরেন আমি আমার ঘরে যদি ছবি রাখি আমি আমার ঘরে যদি পুতুল রাখি আমি আমার ঘরে যদি কার্টুন রাখি আর সারাদিন যদি আল্লাহর কাছে বারাকা চাই তাহলে আমি বারাকা পাবো। আমরা বারাকা পাবো না। তো আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যাই হচ্ছে এইটা ভাই আমরা বারাকা চাই কিন্তু বারাকার কাজ করি না। আরেকটা বারাকা নষ্ট হওয়ার কারণ হচ্ছে সকালবেলা ঘুমিয়ে কাটানো। >> বাংলাদেশে এখন এটা একটা মহামারী আকার ধারণ করেছে। সকালে ঘুমায় না এরকম লোক খুঁজে পাবেন না। ইভেন ইসলাম চর্চা করে এই সমস্ত
লোকও খুব কম খুঁজে পাওয়া যাবে যারা সকালে ঘুমায় না। >> সবচেয়ে মজাদার। >> সকালের ঘুম সবচেয়ে মজাদার। আমি একটা সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা বলি। যদিও এটা আমার কথা না ডাক্তাররা বলেছে বিভিন্ন জায়গায় সার্চ করলে দেখতে পারবেন যে আমরা যে ঘুমাই ঘুমের একটা সাইকেল আছে >> সাইকেল পূরণ করে ঘুমাতে হয় একটা মানুষ যদি 10 টা থেকে 12 টা পর্যন্ত এক ঘন্টা ঘুমায় তাহলে তার এক ঘন্টা ঘুম ইকুয়াল টু চার ঘন্টা চার্জ >> মানে আমি ঘুমাবো এক ঘন্টা কিন্তু আমার শরীরে এনার্জি গ্যাদার হবে চার ঘন্টা >> আচ্ছা
12টা থেকে দুইটা পর্যন্ত এক ঘন্টা ঘুম মানে দুই ঘন্টা ঘুম দুইটা থেকে চারটা পর্যন্ত এক ঘন্টা ঘুম মানে এক ঘন্টা ঘুমচারটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত এক ঘন্টা ঘুম মানে আধা ঘন্টা ঘুম ছয়টার পর থেকে সকালবেলা প্রত্যেক এক ঘন্টা ঘুম মানে হচ্ছে দুই ঘন্টা করে ড্যামেজ। >> এই যে আপনি বললেন সকালের ঘুমটাকে আমাদের অনেক মজা লাগে। আসলে তো শয়তান মজা লাগাচ্ছে। উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট হয়ে যাচ্ছে। আমরা সকালবেলা ঘুমাচ্ছি ঠিকই কিন্তু এটা আমাদের শরীরকে পচিয়ে দিচ্ছে। শরীরকে নষ্ট করে দিয়েছে। তাহলে এই সকালের ঘুমের মাধ্যমে আমাদের বারাকা নষ্ট হয়।
আরেকটা লাস্ট কারণ বলতেছি আমাদের সমাজে বিলাসিতা এবং অপচয়। এইটা একটা মহামারী রোগ আকারে ধারণ করেছে। বিলাসিতা এবং অপচয় করার কারণেও বারাকা নষ্ট হয়। আচ্ছা বারাকা তো নষ্ট হয় কেন? এগুলো আমরা জানলাম। বারাকা বৃদ্ধি পায় কিভাবে? সংসারে আমার ব্যক্তিগত জীবনে আমি কি কি কাজ করলে কি কি আমল করলে আমার বারাকা বৃদ্ধি করতে পারি? সবাইকে রিকোয়েস্ট করব যে সবাই আমার এই বইটা পড়বেন। দ সিক্রেটস অফ রিজিক এন্ড বারাকা। আমি খুব গবেষণা করে এটার মধ্যে বারাকা অর্জন করার প্রায় 30 প্লাস আমলের কথা কাজের কথা বলেছি সবগুলো আলোচনা করা সম্ভব না দুই তিনটা আলোচনা করি
প্রথম কাজ যেটা আমি বলব সেটা হচ্ছে প্রত্যেক মুসলমানের এটা লাজেম একদম আবশ্যক সে যে কোন কাজ করবে প্রত্যেকটা কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা >> আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম হাদিসের মধ্যে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে প্রত্যেক ওই কাজ এবং কথা যেটা বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু হয় না সেটার লেজ কাটা সেটা বরকতহীন হয়। সুতরাং আমরা এখন থেকে যদি আমরা জীবনে বারাকা চাই, আমরা যদি বারাকা অর্জন করতে চাই, প্রথম কাজ হচ্ছে আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থনা করব। আল্লাহর কাছে আমরা বারাকা চাইবো। দ্বিতীয় নাম্বার কাজ হচ্ছে আমরা প্রত্যেকটা ভালো কাজ করার আগে
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করব। >> দ্বিতীয় একটা কাজের কথা বলব। সেটা হচ্ছে আমরা দেখেন কিছুদিন পর পরই আমরা জরিপে দেখি যে সংসারে শান্তি নাই। দাম্পত্য কলহর কারণে সংসার ভেঙে গেছে। তালাক হয়ে যাচ্ছে। আমি বলব এই সংসারে শান্তি না থাকা। সংসার থেকে বারাকা নাই হয়ে যাওয়ার অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে আমাদের ঘরে সালামের প্রচলন নাই। আমরা স্বামীরা স্ত্রীদেরকে সালাম দেইনা, স্ত্রীরা স্বামীকে সালাম দেয় না, বাবা সন্তানকে সালাম দেয় না, সন্তান বাবাকে সালাম দেয় না। আমরা বাইরে যাও একটু সালাম দেই। ঘরের মধ্যে আমরা সালাম দেই না। মনে করি আমারই
ওয়াইফ। তাকে আমি কি সালাম দিব? >> এখন তো গুড মর্নিং গুড নাইটের যুগ। >> গুড মর্নিং গুড মাইনের যুগ। তো এই জন্য আমরা বলব যে আমাদের সমাজ থেকে বারাকা হারিয়ে যাচ্ছে। এই কারণে আমরা যদি বারাকা চাই তাহলে আমরা সালামের প্রচলন ঘটাতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে তোমরা যখন ঘরে ঢুকবা তখন তোমরা তোমাদের ঘরের মানুষকে সালাম দাও। ঘরে যদি কেউ না থাকে তাহলে ওই সালামটা ফেরেশতাদেরকে দাও। >> পবিত্র কোরআনের মধ্যে আয়াতেও আসছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই সালামটাকে মোবারক এবং তৈ্যব মানে মানে সম্ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি
দিয়েছেন। তাহলে আমরা বারাকা চাইলে আমাদের ঘরে সালামের প্রচলন ঘটাতে হবে। একটা দুর্ভলা হাদিসের একটা আমল আছে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে তোমাদের মধ্যে যদি কেউ চায় তার দারিদ্রতা ঘর থেকে পালিয়ে যাক। আমরা চাই না। >> আমাদের মধ্যে কে আছে বলেন যে চায় না যে আমার দারিদ্রতা পালিয়ে যাবে। আমরা সবাই চাই। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে তোমরা যদি তিনটা কাজ করো তাহলে তোমার ওই ঘরে কখনো আর দারিদ্রতা ঢুকবে না। কি কাজ? এক নাম্বার কাজ হচ্ছে
যখন ঘরে ঢুকবা তখন বিসমিল্লাহ বলে সালাম দিবা। দুইটা কাজ। >> আচ্ছা। >> বিসমিল্লাহ বলব, সালাম দিব। তিন নাম্বার কাজ হচ্ছে ঘরে ঢোকার পরে একটা সূরা পড়বা সূরা এখলাস অনেক বড় সূরা না ভাই সূরা >> ছোট্ট সূরা মাত্র তিনটা আয়াতের একটা সূরা দেখেন তাইলে চারটা আয়াতের একটা সূরা তাহলে এই ছোট্ট একটা সূরা এবং ছোট্ট দুইটা আমল যদি আমরা করি তাহলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম কিন্তু আমাদের ঘরে দারিদ্রতা মুক্তির একটা নিশ্চয়তা দিয়েছেন অথচ এটা নিয়ে আমাদের জীবনে সবচেয়ে বেশি হাহাকার >> সবচেয়ে বেশি হাহাকার দারিদ্র রয়ে গেছি
রিজিকের সংকট কাটছে না জীবনে বারাকা নাই তাইলে আমরা যদি আমাদের জীবনে আমাদের সংসারে আমাদের কর্মে আমাদের ব্যবসায় যদি আমরা যদি বারাকা আনতে চাই তাহলে আমরা এক নাম্বার কাজ করব আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব দুই নাম্বার কাজ করব আমরা সব কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করব তিন নাম্বার কাজ করব আমরা ঘরে এবং সমাজে পরিবারের সব জায়গায় সালামের প্রচলন ঘটাবো >> ইনশাল্লাহ ভাই সংসারে তো স্বামী স্ত্রী একে অপরের পরিপূরক তো স্বামীর জীবনে বারাকা আনার জন্য স্ত্রীর কোন ভূমিকা আছে কিনা বা একই সাথে স্ত্রীর জীবনে বারাকা আনার স্বামীর কোন ভূমিকা আছে কিনা?
সুবহানাল্লাহ। আমি আপনাকে সম্পূরক প্রশ্ন করতে চাই কেন থাকবে না? একজন স্বামী তার স্ত্রীর জন্য পরিপূরক। একজন স্ত্রী তার স্বামীর জন্য পরিপূরক। একজন স্বামী যখনই তার স্ত্রীর মাধ্যমে সহযোগিতা পায় তখনই তার স্বামীত্ব পরিপূর্ণ হয়। একজন স্ত্রী যখনই তার স্বামীর কাছ থেকে সহযোগিতা পায় তখনই তার স্তিত্ব পরিপূর্ণ পায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্ত্রীকে স্বামীর লেবাস হিসেবে বলেছেন। তো লেবাস কি? আমার জন্য সহযোগী না? >> অবশ্যই। >> তো এইখানে ধরেন মানে কথাটা একদিক থেকে না বলে আসলে দুই দিক থেকে বলতে হবে। যে
স্বামীর ভূমিকা স্ত্রীর ক্ষেত্রে আছে এবং স্ত্রীর ভূমিকা স্বামীর ক্ষেত্রে আছে। একটা বিষয় শুধু আলোচনা করতে চাই। সেটা হচ্ছে দেখেন আমি আমার দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে একটা কাজ যদি কোন সংসারে কোন স্বামী এবং কোন স্ত্রী করে তাহলে বাংলাদেশের 99 শতাংশ সংসার থেকে 99 ভাগ সমস্যা দূর হয়ে যাবে। >> মাশআল্লাহ। >> কি সেই কাজ? কাজটা হচ্ছে একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ভাববেন উনি আমার জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা। একজন স্বামী তার স্ত্রীকে ভাববেন আমার স্ত্রী আমার জন্য ধৈর্যের পরীক্ষা। এখন একজন স্বামী যদি তার স্ত্রীর ক্ষেত্রে
ধৈর্য ধারণ করে সংসারে কোন ঝামেলা থাকবে নুরুল্লাহ ভাই? >> থাকবে না। আবার পাশাপাশি একজন স্ত্রী ভাববেন তার স্বামী তার জন্য সম্মানের পরীক্ষা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাম কি বলেছেন যে আল্লাহর পরে যদি আমি কাউকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম তাহলে স্ত্রীকে বলতাম তুমি তোমার স্বামীকে সিজদা করো সিজদা কিসের আলামত সম্মানের আলামত আমরা আল্লাহকে সিজদা দেই কেন আল্লাহকে সম্মান করি তাইলে স্বামী হচ্ছে স্ত্রীর জন্য সম্মানের পরীক্ষা কোন স্বামীকে যদি স্ত্রী প্রপার সম্মান দেয় ওই সংসারে কোন সমস্যা থাকবে থাকবে না >> এইখানে ধরেন দুইজনকে দুইজনের জন্য সম্পূরক
কথা বললাম যেহেতু আমাদের প্রশ্নটা ছিল যে স্বামীর বারাকার জন্য স্ত্রীর স্ত্রীর ভূমিকা কি আছে? আমি স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলে যেতে চাই। সেটা হচ্ছে স্বামীর জীবনে বারাকা তখনই আসবে যখন স্ত্রী পরিপূর্ণ পবিত্রতা মেনটেন করে সংসার যাপন করবেন। >> পবিত্রতা তাহারাত আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া একটা অমূল্য সম্পদ। আপনি একটা ঘটনা মেবি জানেন। ঘটনাটা যদিও ধরেন ঘটনা কিন্তু এর মধ্যে থেকে শিক্ষা আছে। একজন বুজুর্গ আলেম। তিনি অনেক বড় পীর ছিলেন। তিনি তার কারামত হিসেবে কি করতেন? জায়নামাজের উপরে বসলে তিনি নদী পার হয়ে
যেতেন। সমুদ্র পার হয়ে যেতেন। এটা তার কারামত ছিল। একদিন তিনি ঘরে এসে তার স্ত্রীর সঙ্গে এই ঘটনাটা আলোচনা করতেছে যে তুমি জানো আমার তো এরকম কারামত দিয়েছে আল্লাহ আমাকে আমি জায়নামাজে বসলে নদী পার হয়ে যেতে পারি। >> তার স্ত্রী তাকে বললে যে ঠিক আছে আপনার এই কারামতটা আমার বাম হাতের খেলা। >> আচ্ছা। >> এটা শোনার পরে স্বামীর একটু মন খারাপ হল। বলল যে তুমি এটা কি বললা? তোমার বাম হাতের খেলা। তো বলছে ঠিক আছে তাইলে আপনি আগামীকালকে আবার এটা চেষ্টা করে দেখেন >> আচ্ছা >> তো পরে ওই বেচারা দিন রাত্র চলে গেছে অনেক
চিন্তাভাবনা করেছে পরের দিন আবার ঠিকই সে জায়নামাজে চড়ে সমুদ্র বা নদী পার হতে গেছে কিন্তু ওইদিন আর হচ্ছে না >> আচ্ছা >> ওইদিন আর হচ্ছে না কয়েকবার চেষ্টা করার পরে সে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসছে বাসায় ফিরে আসার পরে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতেছে তুমি তো বলছো কথাটা তো আমি গুরুত্ব দেই নাই কিন্তু জিনিসটা তো ফলে গেছে কি হইছে আমি তো এটা আজকে পারতেছি না কি করলা তুমি বলতো তো স্ত্রী বলতেছে দেখেন আমি খুব সুন্দরভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হই সবসময় পবিত্র থাকি এবং ওই পবিত্রতা সহকারে আমি রান্নাবান্না করি সেই রান্না খেয়ে আপনি
বারাকা পাচ্ছেন বলে আপনার কারামত জয়ের হয়েছে >> শুধুমাত্র কালকে আপনার সাথে কথা বলার পরে আমি এখন পর্যন্ত অপবিত্র অবস্থায় রান্না করেছি যার কারণে আপনার বুজুর্গী শেষ চিন্তা করা যায় ভাই ঘটনাটা ধরেন আমাদের জন্য একটু মানে কাল্পনিক কিন্তু একটু হাসির ঘটনা কিন্তু এটার জন্য কিন্তু আমাদের জন্য অনেক বড় মেসেজ আছে আমাদের ঘরে যে মায়েরা আছে আমাদের ঘরে যে বোনেরা আছে আমাদের ঘরে যে স্ত্রীরা আছে তারা যদি পবিত্র অবস্থায় খাবার সার্ভ না করে তারা যদি পবিত্র অবস্থায় সংসারটা না চালায় তাহলে স্বামীর পক্ষে কোনদিন বারাকা আসবে
না এটাই হচ্ছে সারাদিন স্বামী কর্মব্যস্ত সারাদিন স্বামী ব্যবসা করতেছে সারাদিন স্বামী উপার্জন করতেছে কিন্তু দিন শেষে এসে সে সংসারে শান্তি পাচ্ছে না কারণ কি সংসারে পবিত্রতা নাই মাস শেষে সে রিজিককে বারাকা পাচ্ছে না কারণ কি তার সংসারে কি নাই পবিত্রতা নাই পবিত্রতাটা শুধু স্ত্রীর জন্য ম্যান্ডেটরিবা বা জরুরি বিষয়টা এরকম না। পবিত্রতা সবার জন্য জরুরি। কিন্তু যেহেতু স্বামীর বারাকার প্রশ্ন এসেছে। স্বামীর বারাকার প্রশ্নে স্ত্রীর পবিত্রতা আবশ্যক আবশ্যক এবং আবশ্যক। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেকটা সংসারে বরকত দান করেন। ভাই
সংসার থেকে যদি একটু বের হয়ে আসি। আমরা আমাদের কর্মজীবনে বা আমরা আমাদের যারা ব্যবসা করছেন তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে বা যারা চাকরি করছেন চাকরির ক্ষেত্রে তার চাকরি জীবনে এই জায়গাগুলোতে তারা কিভাবে বরকত লাভ করতে পারেন মাশাল্লাহ ধরেন আমরা সবাই কর্মজীবী মানুষ অনেকেই ব্যবসায়ী মানুষ এটা আমাদের যেহেতু রিজিকের একটা পার্ট পেশার অংশ এই জায়গাটায় আমাদের বারাকা অবশ্যই দরকার বারাকা ছাড়া আসলে আমরা এখানে আমাদের সংকট কাটবে না আমরা প্রশান্তি পাবো না কর্মজীবন এবং ব্যবসায় বারাকা পাওয়ার জন্য মোটা দাগে কয়েকটা বিষয় মানা দরকার একটা হচ্ছে সততার উপরে
থাকতে হবে সততা বজায় রাখতে হবে কোনভাবেই সততাকে মানে ভুলন্টিত করা যাবে না দুই নাম্বার হচ্ছে আমানতদারিতা থাকতে হবে তিন নাম্বার হচ্ছে দায়িত্ববোধ আলা কুল্ক তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল ভাই দায়িত্ব শুধু একজনের উপরে না আমি বাবা হিসেবে দায়িত্বশীল আমি কর্মী হিসেবে দায়িত্বশীল আমি স্বামী হিসেবে দায়িত্বশীল আমি নেতা হিসেবে দায়িত্বশীল আমি ইমাম হিসেবে দায়িত্বশীল আমরা সবাই কিন্তু কোনভাবে দায়িত্বশীল এবং আল্লাহ রাসূল কিন্তু প্রত্যেককেই বলছেন যে প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং আমরা কর্মজীবনে বারাকা চাইলে আমাদের দায়িত্ব
পালন করতে হবে। অন্যের হক নষ্ট করা যাবে না। আরো একটা চমৎকার আলোচনা আছে। ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তালা আনহু থেকে এইটা আসছে। উনি বলছে উনার বাণী। উনি বলছে যখন কোন মানুষ বুঝবে তার কোন একটা কাজে বারাকা এসেছে তখন সেইটা ছেড়ে অন্য কোথায় না যাওয়া। এটা কিন্তু আমাদের সমাজে এখন উদ্যোক্তাদের জন্য মহামারী। ধরেন আমি একদিন খেজুর বিক্রি করলাম। অন্যদিন আমি সরিষার তেলে চলে গেলাম। আবার এর পরের দিন এসে আমি মাখন চলে আসছি। আবার এর পরের দিন আমি পাঞ্জাবিতে চলে গেলাম। আবার আমি চলে গেলাম কি সে ধরেন ঈদ চলে আসছে। এখন আমি
চলে গেলাম কি? অন্য একটা আইটেম। >> ঘন ঘন সুইচ হয়। ঘন ঘন এই যে পেশা সুইচ করা এবং ব্যবসার নিশ সুইচ করা। এটা কিন্তু নিষেধ করা হয়েছে। এটা বারাকা চলে যাওয়ার কিন্তু অন্যতম কারণ। সুতরাং আমরা যদি কর্মজীবনে বারাকা চাই, আমরা যদি ব্যবসায় বারাকা চাই, তাহলে আমরা যেটাকে বারাকা পাচ্ছি ওইটার মধ্যে আমাদের এস্তেকামত থাকতে হবে। একটা কথা বলা হয় আল ইস্তেকামাতু কারামা। অর্থাৎ কারামত মানে কোন অলৌকিকতা। একটা স্থায়ীভাবে একটা কোন জিনিসের পিছনে লেগে থাকা এটা এক প্রকার কারামত। সুতরাং আমরা কর্মজীবন এবং ব্যবসায় বারাকা চাইলে
আমাদের সততা লাগবে, আমানতদারিতা লাগবে, দায়িত্ব ঠিকমত পালন করতে হবে। আমাদের মিথ্যা কথা বলা যাবে না। আমাদের অন্যের হক নষ্ট করা যাবে না। পাশাপাশি আমাদের যেই জিনিসটা আমাদের ভালো লেগেছে। যেটাতে আল্লাহর রহমত দিয়েছে, বারাকা দিয়েছে আমরা বুঝবো। ওইটাতে কন্টিনিউ থাকতে হবে। ভাই একই সাথে আমাদের এখন তো যেটা বললাম যে টাকা পয়সা সম্পদে আমরা বরকতহীনতা খুব বেশি অনুভব করছি এবং আমরা বরকত পাই না সেই সাথে আমরা আরেকটা অভিযোগ পাই আমাদের আশপাশের মানুষদের থেকে বা আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেও আমরা এটা অনুভব করি যে শুধু টাকা পয়সা বা সম্পদ না আমরা আমাদের
সময়েও বরকত পাই না অনেক সময় দেখা যায় যে এক ঘন্টায় যে পরিমাণ কাজ করা যায় আমরা তিন ঘন্টায়ও ওই পরিমাণ কাজ করতে পারছি না এটার কারণ কি এবং এই সময়ে কিভাবে আমরা বরকত আনতে পারি >> আসলে এই কষেত্রে কষেত্রে আমাদের প্রধান প্রথম একটা মানসিক স্বস্তি অর্জন করতে হবে এই কথাটা ভেবে যে আমরা আসলে আখেরুজ জামানায় আছি। আমরা শেষ জামানায় আছি। তো শেষ জামানায় সময়ের বরকত চলে যাবে। এটা কেয়ামতের আলামত। শেষ জামানায় সময়ে বরকত থাকবে না। আসলে আমরা সময়ে বরকত পাবো না। এটা কেয়ামতের আলামত। সুতরাং এটা আমরা ধরে রাখতে পারবো না। এটা হবেই।
কিন্তু কিছু কাজ আমাদের করণীয় আছে। আমি শুধু দুইটা বিষয়ে আমার দর্শক যারা আছেন তাদেরকে মানে বলতে চাই। একটা হচ্ছে আমরা আমাদের সময়কে সুন্নাহ মোতাবেক সাজাই না সুন্নাহ মোতাবেক গ্রহণ করি না। আমরা আমাদের সময়কে সুন্নাহ মোতাবেক গ্রহণ করতে হবে। কিভাবে? দেখেন সুন্নাহ মোতাবেক দিন শুরু হয় মাগরিব থেকে। >> আচ্ছা। >> কারণ আরবি বর্ষপুঞ্জিতে রাত আগে আসে। দিন পরে আসে। সুতরাং আমি বলব এইটা আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের এই ভুলটা ভাঙ্গা উচিত যে আমার দিন সূর্যোদয় থেকে শুরু হবে না আমার দিন শুরু হবে সূর্যাস্ত থেকে
আচ্ছা >> এইটা আমাদের রুটিনে যদি আমরা মানে আয়ত্ত করতে পারি তাহলে দেখবেন অনেক বারাকা চলে আসবে কারণ মাগরিব থেকে আমার সময় শুরু হবে মাগরিব থেকে আমি আমার দিন সাজাবো মাগরিব থেকে আমরা দিনকে শুরু করব আমার দিন শুরু করার শুরুতেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের কত প্রকার এনার্জি দিচ্ছেন সেটা আমি একটু পরে আলোচনা করি দুই নাম্বার বিষয় হচ্ছে আমাদের পুরা জীবনের দৈনন্দি দিন রুটিনটা সাজাতে হবে নামাজকে কেন্দ্র করে প্রথম নামাজ পরে কাজ নামাজের ফাঁকে ফাঁকে কাজের ফাঁকে ফাঁকে নামাজ না কিভাবে ধরেন আমার রুটিন হবে মাগরিব থেকে এশা এক
নাম্বার পার্ট এশা থেকে তাহাজ্জুদ দুই নাম্বার পার্ট তাহাজ্জুদ থেকে ফজর তিন নাম্বার পার্ট ফজর থেকে যোহর চার নাম্বার পার্ট যোহর থেকে আসর পাঁচ নাম্বার পার্ট আসর থেকে মাগরিব ছয় নাম্বার পার্ট এইভাবে যদি আমরা সুন্নত মোতাবেক আমাদের জীবনের রুটিনটাকে সাজাইতে পারি এবং এইখানে আমাদের যে কাজ করণীয় আছে সেগুলো যদি আমরা করতে পারি তাহলে দেখবেন ইনশাআল্লাহ ইনশাআল্লাহ সাহাবীরা যেভাবে বারাকা পেয়েছেন আমরাও সেভাবে বারাকা পাব। মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত আমার কি কাজ? তিনটা কাজ। এক নাম্বার কাজ হচ্ছে আমরা এই সময় খাবার খেয়ে নেব। এটা সুন্নত।
এখন কিন্তু স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সবাই বলতেছেন যে ঘুমের অন্ততপক্ষে তিন চার ঘন্টা আগে খাবার খেতে হবে। তাইলে আমি যদি ধরেনটায় ঘুমাই, আমি যদি 10:00 টায় ঘুমাই তাহলে ডেফিনেটলি আমাকে মাগরিবের পরে খাবার খেয়ে নিতে হবে। >> তাইলে এক নাম্বার কাজ হচ্ছে আমরা খাবার খেয়ে নিলাম রাতের খাবার দুই নাম্বার কাজ হচ্ছে আমরা এই সময় পরিবারকে সময় দিব আমরা কিন্তু পরিবার থেকে অনেক দূরে সবার কিন্তু অভিযোগ সংসারে শান্তি নাই এই কারণেই যে স্বামী স্ত্রীকে সময় দেয় না স্ত্রী স্বামীকে সময় দেয় না তারপরে হচ্ছে ধরেন আপনার বাবা সন্তানকে সময় দেয়
না সন্তান বাবাকে সময় দেয় না এই সময় আমরা পরিবারকে সময় দিব তাইলে দেখেন আমার 24 ঘন্টার রুটিনের শুরুতেই আমি প্রথম খাবার খেয়ে এনার্জি নিয়ে নিলাম >> এরপরে পরিবারকে সময় দিয়ে এনার্জি নিয়ে নিলাম। এটা এখন সাইন্টিফিকভাবে প্রমাণিত যে কখন যখন কোন পুরুষ তার সন্তানদেরকে সময় দেয় তখন তার এনার্জি লেভেল হাই হয়ে যায়। আচ্ছা তাহলে এটা দেখেন আল্লাহ রাসূলের সুন্নত। এরপরে আমরা এশার নামাজ পড়বো। এশার নামাজের পর পরে আমাদের প্রধানতম কাজ হচ্ছে ঘুমিয়ে যাওয়া। আল্লাহ রাসূ সাল্লাম এশার নামাজের পরে খুব জরুরি না হলে কথা বলতেন না। কথা বলা
অপছন্দ করতেন। তাহলে আমরা ঘুমিয়ে গেলাম। তাহলে দেখেন খাবার খেয়ে এনার্জি নিলাম। পরিবারের কাছ থেকে এনার্জি নিলাম। তারপরে ঘুমিয়ে এনার্জি নিলাম। এরপরে ধরেন এশা থেকে তাহাজ্জুদ তাহাজ্জুদের সময় গিয়ে আমাদের ফাইনাল একটা এনার্জি নেওয়ার সময় সেটা কি? আমার রবের সাথে কানেকশন। ধরেন আপনি একটা প্রতিষ্ঠানে জব করেন। সকালবেলায় আপনাকে আপনার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ফোন করে বলল যে নুরুল্লাহ তোমাকে আমি খুব পছন্দ করি। ঠিক আছে আমার সাথে তোমার যোগাযোগ ভালো আছে। ওই দিনটা তো আপনার খুব খারাপ যাবে। >> না। >> কেন?
মোটিভেশন থাকবে। >> মোটিভেশন থাকবে। কারণ মালিকের সাথে আপনার যোগাযোগ হয়েছে। ভাই আমার মালিকের সাথে যোগাযোগ কই? আমি যদি আমার কর্ম শুরু করার আগেই আমার মালিকের সাথে যোগাযোগটা করে আসতে পারি তাহলে ওই দিনটা কোনভাবে বরকতহীন কাটার কোন ওয়ে আছে? তাহলে দেখেন কেন আমরা মাগরিব থেকে দিন শুরু করব? আমি খাবারের এনার্জি নিচ্ছি। আমি পরিবারের এনার্জি নিচ্ছি। আমি ঘুমের এনার্জি নিচ্ছি। ফাইনালি আমি আমার রবের সাথে কানেকশন হয়ে আধ্যাত্মিক এনার্জি নিয়ে এরপর যদি আমি কাজ শুরু করি তাহলে ওই দিনের চেয়ে বারাকামন্ডিত দিন আর মানুষের জীবনে আসবে
না এরপরে ধরেন ফজরের পর থেকে যোহর পর্যন্ত কাজ এই টাইমটাই মূলত হচ্ছে কাজের মূল সময় দেখেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নামাজের ডিউরেশনটাও কিন্তু ওইভাবে দিয়েছেন ফজর থেকে যোহর পর্যন্ত যতটুকু গ্যাপ যোহর থেকে আসর আসর থেকে মাগরিব মাগরিব থেকে এশা গ্যাপ নাই >> তাইলে আমাদের মূলত কাজের সময় ফজর থেকে যোহর যোহর থেকে আসর পর্যন্ত আমরা খাবার খাবো, কাইলুলা করব, আরো কিছু কাজ করতে পারি। আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত নো ডিপ ওয়ার্ক। কোন ভারী কাজ করা যাবে না। এটাকে বলা হয় পর্যালোচনার সময়। অর্থাৎ আমি পুরা দিনটা কিভাবে কাটাইলাম এটা একটা
পর্যালোচনা করা। যেহেতু নতুন একটা দিন শুরু হচ্ছে। আমি কি কি করব একটা পর্যালোচনা করা। হু হু >> তো এইভাবে যদি ধরেন আমরা ছয়টা ভাগ করে আমরা যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতকে মেনে নামাজ কেন্দ্রিক আমাদের 24 ঘন্টাকে সাজাতে পারি তাহলে ভাই ইনশাআল্লাহ সময় বারাকা পাওয়া যাবে। সময় বারাকা হারিয়ে যাওয়ার আরো একটা কথা না বলেই পারছি না। সেটা হচ্ছে দেখেন ফজরের পর যদি আপনি কাজ শুরু করেন। তো আপনি যখন ফজরের পরে কাজ শুরু করবেন 6:00 টা থেকে আরেকটা লোক কাজ শুরু করে যদি 10:00 টা থেকে, তাইলে উনার সাথে তো অলরেডি চার পাঁচ
ঘন্টা একটা ডিফারেন্স হয়ে যাচ্ছে। তো বারাকা তো অবশ্যই তার কাছে আসবে যিনি ফজরের পরে নামাজ কাজ শুরু করবেন। তো এজন্য আমাদের উচিত ফজরের পরে আমাদের কাজ শুরু করা। যেহেতু নামাজ কেন্দ্রিক রুটিনের প্রশ্নই আসলো বা আলোচনা আসলো নামাজ এটা কি মানে আপনার কথা থেকে মনে হচ্ছে যে এইটা জীবনে বারকা বারাকা আনার জন্য একটা প্রধান মাধ্যম। আমরা তো মনে করি নামাজ একটা ফরজ ইবাদত। দুইটা মানে আপনি যা বলছেন আর আমরা যা ভাবছি দুইটার মধ্যে গ্যাপটা কোথায়? >> না কোন গ্যাপই নাই। আচ্ছা >> নামাজ একটা ইবাদত এটা ঠিকই আছে। আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে ফরজ ইবাদত করতে দিয়েছেন এটা ঠিক আছে। ইটসেলফ এই জায়গায় এটা ঠিক আছে। নামাজ ফরজ ইবাদত। কিন্তু ধরেন আপনি দক্ষিণ দিকে জানালা খুলেছেন আযান শোনার জন্য। আপনি কি দক্ষিণ দিকের বাতাস বন্ধ থাকবে? >> না। >> তো আমরা নামাজ পড়বো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আদেশ হিসাবে তার হুকুম হিসাবে। কিন্তু নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের প্রশান্তি আসবে। নামাজের মাধ্যমে আমাদের বারাকা আসবে। নামাজের মাধ্যমে আমরা সময় ম্যানেজমেন্ট শিখবো। নামাজের মাধ্যমে আমরা প্রভুর কানেকশন শিখবো। এটা তো নামাজের ধরনের এক্সট্রা বেনিফিট। তাহলে আমি দক্ষিণ
দিকে জানালা খুলেছি আজানের জন্য। দক্ষিণ দিকের বাতাস আমি এমনিতেই পেয়ে যাব। নামাজ পড়বো আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুম হিসেবে আদেশ হিসেবে, ইবাদত হিসেবে আমি বারাকা এমনিতেই পেয়ে যাব। >> ইনশাআল্লাহ। ইনশাআল্লাহ। মিরাজুর রহমান ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আপনি চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এবং এমন এমন সূক্ষ্ম কিছু বিষয় আপনি সামনে এনেছেন যা আসলে আমরা স্বাভাবিকভাবে ভাবি না বা ভাবতে চাই না বা আমাদের মাথায়ও আসে না বিশেষ করে আপনি সর্বশেষ যেভাবে দিনটাকে ভাগ করার কথা বললেন মাগরিব থেকে নিয়ে
সময়টা শুরু করার আমার মনে হয় না যে এইভাবে আসলে কেউ চিন্তা করে আশা করি আপনার এই চিন্তা মাধ্যমে এবং এই আলোচনার মাধ্যমে আমাদের দর্শক শ্রোতারা অনেক বেশি উপকৃত হবে এবং তারা তারা তাদের নতুন একটা চিন্তার দিগন্ত তাদের সামনে উন্মোচিত হবে এবং জীবনকে তারা নতুনভাবে বারাকাময় করার জন্য একটা প্রেরণা পাবে ইনশাআল্লাহ। জি নুরুল ভাই আপনাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং রকমারি.com কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আসলে ন্যাচারালি ভিডিও বিরোধী মানুষ। আমি ভিডিও থেকে একটু দূরে থাকি। কিন্তু আমি যেহেতু দ সিক্রেটস অফ রিজিক এন্ড বারাকা নামে একটা
বই লিখেছি এবং এই বইটা লিখতে গিয়ে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমার জীবনের অনেক ভুল ধারণা চেঞ্জ হয়ে গেছে রিজিক এবং বারাকা নিয়ে। এজন্য আমার কাছে মনে হয়েছে যে বইয়ের পাশাপাশি আমি রকমারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যদি এই বিষয়গুলো আলোচনা করি তাহলে হয়তো আমাদের পাঠক এবং যারা পাঠক না তারাও উপকৃত হবে এজন্য আপনাকে এবং রকম.com কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ আপনাকেও। ইনশাআল্লাহ আশা করছি এই আলোচনার মাধ্যমে। প্রিয় দর্শক শ্রোতা আপনারা অনেক বেশি উপকৃত হবেন। আল্লাহ পাক আমাদের প্রত্যেকের জীবনকে শতভাগ বারাকাময় করার তৌফিক দান
করেন। আমিন। আমরা আমাদের আজকের এই সিরাতুল মুস্তাকিমের পর্ব এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। 6 লক্ষাধিক পণ্য আর অসংখ্য সুবিধা নিয়ে আস্থার রকমারি আপনার দৌড়ে। যা কিছু দরকারি সাথে আছে রকমারি। বই ও পণ্য অর্ডার করতে ভিজিট করুন এখনি।